আজ খুলে দেয়া হতে পারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জল কপাট


আলমগীর মানিক    |    ০৩:০৯ এএম, ২০২৪-০৮-২৫

আজ খুলে দেয়া হতে পারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জল কপাট

আজ রোববার খুলে দেয়া হতে পারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জল কপাট। কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে আজ সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ১৬টি স্পীলওয়ে ৬ইঞ্চি করে খুলে দেয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছেড়ে দেওয়া হবে। এর আগে শনিবার রাত ১০টায় পানি ছাড়ার কথা বলা হলেও বাঁধে নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকায় শেষ পর্যন্ত আর পানি ছাড়া হয়নি।

তবে এনিয়ে কোনো গুজবে কান না দেওয়া বা জনগণকে আতঙ্কিত না হবার পরামর্শ দিয়ে পিডিবি কর্তৃপক্ষ। কারণ ১৬টি কপাট ৬ ইঞ্চি খোলা হলে সেকেন্ড মাত্র ৯ হাজার কিউসেক পানি অপসারিত হবে। এই পানির ধারণ ক্ষমতা কর্ণফুলি নদীর রয়েছে বলে জানান তারা।

রাত সোয়া ১০টা দিকে পানি বিদ্যুৎ পকল্পের ম্যানেজার এটিএম আব্দুজ্জাহের নিশ্চিত করেন যে, সকালের আগে পানি ছাড়া হচ্ছে না। এর আগে শনিবার পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাত ১০টায় পানি চাড়ার কথা বলে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরার উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে কাপ্তাই হৃদের পানি টুইটুম্বর হয়ে পড়ায় বাঁধের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কাপ্তাই হ্রদ থেকে কিছু পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র। 

এতে বলা হয়, কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা আজ বিকেল ৩টায় ১০৭ দশমিক ৬৬ ফুট এমএসএল, যা বিপৎসীমার কাছাকাছি হওয়ায় লেকের উজান ও ভাটি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে আজ রাত ১০টায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ছয় ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে। এতে নয় হাজার সিএফএস পানি নিষ্কাশিত হবে।

আরও জানানো হয়, বর্তমানে হ্রদের ইনফ্লো ও বৃষ্টিপাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইনফ্লো বেশি হলে, অর্থাৎ পানির লেভেল অস্বাভাবিক বাড়লে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যার ফলে ৩২ হাজার সিএফএস পানি এমনিতেই নিষ্কাশিত হচ্ছে।

এদিকে বাঁধ থেকে পানি ছাড়া হলে এর প্রভাব আশপাশের এলাকায় পড়তে পারে সেজন্য এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানান কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুজ্জাহের। তিনি জানান, গত কয়েকদিন পানিছাড়া নিয়ে অযথা গুজব ছড়ানোর কারণে কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৯ মেগাওয়াট এবং ২, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে গড়ে ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নানান বাস্তবতার কারণে এখন আর সর্বোচ্চ ২৪৫ মেগাওয়াট উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। 
পানি ছাড়ার আগেই ‘জরুরি বার্তা’ চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনীর কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম ঘাঁটি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দুপুরে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। সাধারণত: পানির লেভেল ১০৮ (এমএসএল) মীন সি লেভেল ক্রস করলেই হ্রদের পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।